
নিজস্ব প্রতিবেদক,
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও তিনি ভোট দেননি। পরে ভোটে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ফলাফল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অনিশ্চয়তা থাকা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল আগেই জানা ছিল বলে তিনি মনে করেছেন। এ কারণেই তিনি ভোটদানে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখেননি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে রুমিন ফারহানা সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বড় ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে জাতির আত্মত্যাগ ও অনেক স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা যেত বলে তিনি মনে করেন।
ভোট না দেওয়ার কারণ হিসেবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার থাকলেও ভোট দেন ৩৪৩ জন। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
ভোট গণনা শেষে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। প্রদত্ত ৩৪৩টি ভোটই বৈধ ছিল বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে রুমিন ফারহানার পাশাপাশি বিএনপির মির্জা আব্বাসসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁদের ভোটদানে অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা - মাহিদুর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক - বিজয় সাহা
প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক - বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন
সহ-সম্পাদক - শেখ মোয়াজ্জিম হোসেন জুয়েল
ফোন:
01734-454101, 01400-048340
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: এফ এ হক টাওয়ার ( ৩য় তলা), কাওরান বাজার, ঢাকা - ১২১৫..
Copyright © 2026 দৈনিক মানবতার কন্ঠস্বর . All rights reserved.