চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মৌলভীবাজারে চা শ্রমিক ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা ও মিছিল,!
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট ২০২৬, রবিবার*: চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে চা শ্রমিকদের মজুরি এখনো ২০০ টাকা নির্ধারণ হয়নি। চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন এবং চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বেলা ১২টায় মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশীর সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ।
সভার আগে মৌলভীবাজার পৌরসভার সামনে থেকে চা শ্রমিক ফেডারেশনের একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে পৌরসভার সামনে এসে শেষ হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। আরও বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ দাস অলমিক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির সদস্য সচিব জনক লাল দেশওয়ারা, চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরণ শুক্ল বৈদ্য সহ বিভিন্ন চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে চা শ্রমিকরা খেয়ে না খেয়ে আধপেটা থেকে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বাগানের উৎপাদন বৃদ্ধি করছে। অথচ মালিকরা লাভবান হলেও শ্রমিকদের মজুরি দিচ্ছে মাত্র ১৮৭ টাকা। এই মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ২০২ সালে চা শ্রমিকরা ৩০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করে মালিকদের সাথে মিটিং করে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭০ টাকা মজুরি ঘোষণা করেন। ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে অগণতান্ত্রিক গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেই গেজেটের মেয়াদ ৯ আগস্ট ২০২৬ শেষ হওয়ার পরদিন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে ১৯৬ টাকা মজুরি ঘোষণা করে। যা অযৌক্তিক ও চরম অগণতান্ত্রিক।
সভা থেকে চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা মজুরি বৃদ্ধির লড়াইয়ে চা বাগানে আন্দোলনরত সকলকে নিয়ে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা - মাহিদুর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক - বিজয় সাহা
প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক - বিদ্যুৎ চন্দ্র বর্মন
সহ-সম্পাদক - শেখ মোয়াজ্জিম হোসেন জুয়েল
ফোন:
01734-454101, 01400-048340
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: এফ এ হক টাওয়ার ( ৩য় তলা), কাওরান বাজার, ঢাকা - ১২১৫..
Copyright © 2026 দৈনিক মানবতার কন্ঠস্বর . All rights reserved.