
প্রবাসের মাটি থেকে হাওড়ের মানুষের হৃদয়ে, রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজার নতুন প্রত্যয়
মোঃ রেজাউল করিম, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা, দূরদেশের কর্মময় জীবন আর দেশের প্রতি টান—সবকিছুকে একসঙ্গে ধারণ করে সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন লন্ডন প্রবাসী সমাজসেবক ও প্রবীণ ব্যক্তিত্ব রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজা। মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি গণমানুষের কথা বলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে তাঁর উদ্যোগের সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক হাওড় মূর্ছনা’।
প্রবাসে থেকেও নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজা। তাঁর ভাবনায় প্রবাস মানে শুধু অর্থ উপার্জনের স্থান নয়, বরং দূরদেশে থেকেও নিজের জন্মভূমি, এলাকার মানুষ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা একজন মানুষের নৈতিক কর্তব্য।
এই দর্শন থেকেই ‘দৈনিক হাওড় মূর্ছনা’র পথচলা। তাঁর প্রত্যাশা, এই সংবাদমাধ্যম হাওড়ের সাধারণ মানুষের কথা বলবে, প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ তুলে ধরবে এবং উন্নয়ন, অধিকার ও জনস্বার্থের প্রশ্নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
‘জনপ্রতিনিধিত্ব মানে শুধু পদ নয়, মানুষের আস্থার দায়িত্ব’
রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজার চিন্তায় জনপ্রতিনিধিত্বের অর্থ কেবল একটি পদ বা পরিচয় নয়। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধিত্বের আসল অর্থ হলো মানুষের কথা শোনা, মানুষের দুঃখ বোঝা এবং প্রয়োজনের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তিনি মনে করেন, একজন মানুষের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয় নির্বাচনের সময় নয়—বরং মানুষের বিপদে, সংকটে এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।
তাঁর ভাষায়, মানুষের ভালোবাসা কোনো পদবির মাধ্যমে অর্জন করা যায় না; এটি অর্জন করতে হয় দীর্ঘদিনের আস্থা, সততা, দায়িত্ববোধ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে।
হাওড়ের উন্নয়ন নিয়ে আলাদা ভাবনা
সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের মানুষের জীবন প্রকৃতি ও কৃষির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বছরের একটি বড় সময় পানি, বন্যা, যোগাযোগ সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হয় এখানকার মানুষকে।
রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজার মতে, হাওড়ের উন্নয়নকে শুধু প্রকল্প বা অবকাঠামোর হিসাব দিয়ে দেখলে চলবে না। হাওড়ের মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব পরিবর্তনই হতে হবে উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি।
কৃষক সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন কি না, শিক্ষার্থী সহজে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে কি না, অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনের সময়ে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরেই হাওড়ের প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রবাসীদের কণ্ঠস্বরও হবে শক্তিশালী
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সুনামগঞ্জ ও বাংলাদেশের প্রবাসীদের নিয়ে তাঁর রয়েছে বিশেষ ভাবনা। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর মানুষ নন; তাঁদেরও রয়েছে অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা।
‘দৈনিক হাওড় মূর্ছনা’র মাধ্যমে প্রবাসীদের এসব বিষয় সামনে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তাঁর বিশ্বাস, যে মানুষ দূরদেশে থেকেও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেন, তাঁর কথাও দেশের গণমাধ্যমে সমান গুরুত্বে উচ্চারিত হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদপত্র হবে মানুষের কথা বলার জায়গা
‘দৈনিক হাওড় মূর্ছনা’ সম্পর্কে রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজা বলেন, সংবাদমাধ্যমের শক্তি কোনো ব্যক্তিকে বড় করা নয়; বরং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা।
তিনি চান, সংবাদপত্রটি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা স্বার্থের মুখপাত্র না হয়ে তথ্য, সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষে একটি দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠুক।
তাঁর দর্শন—একজন সাংবাদিকের কলম যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলবে, তেমনি একজন জনসম্পৃক্ত মানুষের দায়িত্ব হবে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা।
‘হাওড়ের মাটি, প্রবাসীর মন ও ন্যায়ের লড়াইয়ে আমরা অবিচল’
রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। তাঁর বিশ্বাস, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বড় বড় বক্তব্যের চেয়ে প্রয়োজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা কোনো পদ-পদবির বিষয় নয়। মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, হাওড়ের মানুষের স্বপ্ন, প্রবাসীদের ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ‘দৈনিক হাওড় মূর্ছনা’র পথচলা হবে।
তাঁর প্রত্যাশা, দেশ-বিদেশের মানুষের ভালোবাসা, পরামর্শ ও সহযোগিতায় এই সংবাদমাধ্যম ভবিষ্যতে হাওড়াঞ্চলের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও সত্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।
রেজাউল কবির জায়গীরদার রাজার প্রত্যয়—পদ নয়, মানুষের আস্থাই বড়; পরিচয় নয়, মানুষের জন্য কাজ করাটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
মন্তব্য করুন