
নোয়াখালীর চৌমুহনীতে আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান, আদালতে সোপর্দ ১২
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ নারীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-চাটেখেলর তালতলা গ্রামের আবু নাছের শরীফ (৬৩), চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকার মো. ইমন হোসেন (৩২), চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. হানিফ (৩৫), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাফায়েত হোসেন সাকিব (২৭), বরিশালের বড় জালিয়া গ্রামের রিনা বেগম (৩৪), সুনামগঞ্জের লালপুর গ্রামের স্নেহা আক্তার (২১), ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাইশা আক্তার (১৮), সুধারাম থানার সল্যা সোনাপুর এলাকার ইসরাত জাহান পূর্ণিমা (১৮), নোয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা আক্তার নুসরাত (১৮), একই ওয়ার্ডের জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৮), বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মরিয়ম আক্তার (৩০) এবং নওগাঁ জেলার বদলগাছি গ্রামের মিম আক্তার (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হোটেলটির বিভিন্ন কক্ষ থেকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ জনের মধ্যে আটজন নারী। অভিযানের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমুহনী বাজার নোয়াখালীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন