
গীতার শিক্ষা মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করে
মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর দায়ারঘাটাস্থ গোপাল ডাক্তার বাড়িতে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, গোপাল ডাক্তার বাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজহিতৈষী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত রতন করের আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা মাঙ্গলিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৩ আগস্ট দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, স্মরণানুষ্ঠান, প্রয়াত রতন করের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত, বিশ্বশান্তির প্রার্থনা এবং শাকান্ন ভোজনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও সনাতন ধর্মতত্ত্বামৃত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ জাতীয় মাতৃভক্তি উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট চণ্ডী-গীতামৃত পরিবেশক, ভাগবতীয় বক্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গীতানুধ্যায়ী ডা. শ্রী সুপণ বিশ্বাস শঙ্করেশ।
আলোচনায় ডা. শ্রী সুপণ বিশ্বাস শঙ্করেশ বলেন, “অনন্তকোটি ব্রহ্মাণ্ডের অধিপতি শ্রীশ্রী পরমেশ্বরের অপার্থিব শাশ্বত জ্ঞানবাণী মহামহতী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পবিত্র আদর্শ শিক্ষা মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করে। প্রতিটি সনাতনীর উচিত পারিবারিক সুশিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্বধর্মের আদর্শ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিবাহী শিক্ষা প্রদান করা।”
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি জীবনে রতন কর ছিলেন সহজ-সরল, আদর্শ ও মানবিক একজন মানুষ। সমাজের প্রতিটি মহৎ কাজে তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর কর্মময় জীবন সমাজের মানুষের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে ভক্তিগীতি পরিবেশন করে উপস্থিত ভক্তদের আনন্দ দেন চট্টগ্রামের নন্দিত সাংস্কৃতিক সংগঠন শুভম্ মিউজিক্যাল গ্রুপের প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী পঙ্কজ বণিক।
যন্ত্রসংগীতে ছিলেন সুমঙ্গল চক্রবর্তী, বিপ্লব চক্রবর্তী, নয়ন দে ও শুভ্রদেব ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সমাজহিতৈষী শিবু প্রসাদ ধর, সংগঠক মিঠুন চক্রবর্তী, ডা. শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বাস ছোটন, সমাজসেবক টিপলু কর্মকারসহ অনেকে।
আদ্যশ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জয়ন্ত সংঘ, শ্রীশ্রী জগন্নাথধাম, তপোবন আশ্রম রাউজান শাখা, গোপাল ডাক্তার বাড়ি পূজা উদযাপন পরিষদ, মনপোদ্দার বাড়ি দুর্গা মন্দির, মা সারদা মন্দির, শ্রীশ্রী জ্বালাকুমারী মন্দির, শ্রীশ্রী মা কালী মন্দির, ঐতিহ্যবাহী বাঘের মেলা উদযাপন পরিষদ, বেগম রোকেয়া পাঠাগারের কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া রাউজানসহ দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক গীতাপ্রেমী ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী অনুষ্ঠানে সমবেত হন। দিনব্যাপী ধর্মীয় ও স্মরণানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রয়াত রতন করের কর্মময় জীবন, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও মানবিক অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মন্তব্য করুন