পাকিস্তান আমলের কমিউনিটি সেন্টার দখলমুক্ত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার দাবি
বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাকিস্তান আমলে স্থাপিত একটি পুরোনো কমিউনিটি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে অকেজো ও অযত্নে পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারি এই স্থাপনাটি বর্তমানে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় এলাকাবাসীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে কমিউনিটি সেন্টারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভবনটি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি এই মূল্যবান সম্পত্তির একটি অংশ গত প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দখলে রেখে গবাদিপশুর খামারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও দখলে থাকায় একদিকে যেমন এর যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় এক একর জায়গার ওপর অবস্থিত সম্পত্তিটি দখলমুক্ত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলে এবং পুরোনো ভবনটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হলে এটি পুনরায় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি ভাড়া, সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনারসহ অনুমোদিত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থাপনাটি থেকে সরকারি রাজস্ব আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় ভবনটির কাঠামো দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে ভবন ও জমির বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি।
একই সঙ্গে সরকারি জায়গা অবৈধ দখলে থাকার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, সরকারি সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। তাই মূল্যবান এই সম্পত্তি দীর্ঘদিন দখল ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে না রেখে দ্রুত দখলমুক্ত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এনে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি, সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন