
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশপ্রেম, মানবকল্যাণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ইন্টারন্যাশনাল রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা, সদস্য সচিব ও স্পিকার জনাব এম এ রউফ। সংগঠক, উদ্যোক্তা, গবেষক, লেখক ও চিন্তাবিদ হিসেবে তার বিভিন্ন উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করা এম এ রউফ বর্তমানে কাতারে একটি সরকারি চাকরিতে কর্মরত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করা।
এম এ রউফের চিন্তা ও কর্মধারার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো—বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুধু ‘প্রবাসী’ বা ‘পরবাসী’ হিসেবে না দেখে দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা’ হিসেবে মর্যাদার দাবি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। দীর্ঘ গবেষণা ও চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে তিনি এই পরিচয়কে সামনে এনেছেন বলে তার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তার মতে, দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন এম এ রউফ। তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা এবং সংগঠিতভাবে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং দেশের উন্নয়নকে তার কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এম এ রউফের সামাজিক ও সাংগঠনিক দর্শনের অন্যতম মূলমন্ত্র—
“No divide — Unite
No destroy — Develop
No revenge — Reconciliation
No hatred — Cooperation.”
তিনি বিশ্বাস করেন, বিভক্তি একটি জাতিকে দুর্বল করে এবং ঐক্য একটি জাতিকে শক্তিশালী করে। তাই বিভাজন, প্রতিহিংসা ও ঘৃণার পরিবর্তে ঐক্য, উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
সংগঠন পরিচালনায় চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিস্বার্থের পরিবর্তে স্বচ্ছতা, সততা এবং স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মানুষের কল্যাণে নিজের সামর্থ্য, সময়, শ্রম ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কাজ করাই তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
১৯৯২ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভার্চুয়াল সভা-মিটিংয়ের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে এম এ রউফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তার উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
এম এ রউফের দীর্ঘদিনের দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘দেশপ্রেমিক’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ মালেক খান, চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক গবেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ—এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে।
এই স্বীকৃতিকে দীর্ঘদিনের শ্রম, সততা, মানবকল্যাণ ও দেশপ্রেমের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এম এ রউফের দীর্ঘ পথচলায় তার সহধর্মিণী জনাবা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফের সহযোগিতা ও উৎসাহের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পারিবারিক সহযোগিতা একজন মানুষের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
আন্তর্জাতিক রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ও পরিচিতি বিস্তারে এম এ রউফের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, বৃহত্তর মানবিক অভিযাত্রায় এম এ রউফের চিন্তা, সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রংধনু নারী ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এম এ রউফকে শুধু একজন সংগঠক নয়, বরং পথপ্রদর্শক, স্বপ্নদ্রষ্টা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণে প্রত্যয়ী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তার ভাবনায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ বিভক্তির পরিবর্তে ঐক্যকে বেছে নেবে; ধ্বংসের পরিবর্তে উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে; প্রতিহিংসার পরিবর্তে সম্প্রীতি এবং ঘৃণার পরিবর্তে সহযোগিতাকে ধারণ করবে।
তার এই দীর্ঘ পথচলার মূল বার্তা—ঐক্য হোক শক্তি, অধিকার হোক অঙ্গীকার এবং প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অবদান হোক বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গর্ব।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে এম এ রউফের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন