
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়ার হার প্রায় ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রদত্ত ৩৪৩টি ভোটই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভোট না দেওয়া ছয়জন হলেন—
১. মির্জা আব্বাস — বিএনপি, ঢাকা-৮
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতাজনিত কারণে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।
২. ড. ওসমান ফারুক — বিএনপি, কিশোরগঞ্জ-৩
সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকায় ভোট দিতে পারেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. মোস্তফা কামাল পাশা — বিএনপি, চট্টগ্রাম-৩
অসুস্থতার কারণে তিনিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণে উপস্থিত হতে পারেননি।
৪. ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা — স্বতন্ত্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেননি। ভোট না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে তাঁর কাছে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসনমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই নিশ্চিত থাকলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন বলা যায় না।
৫. গাজী নজরুল ইসলাম — জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত, সাতক্ষীরা-৪
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দেননি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে ২২ জুলাই তাঁকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখতেন।
৬. মুফতি মো. আবুল হাসান — খেলাফত মজলিস, সিলেট-৫
খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আবুল হাসানও ভোট দেননি। দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
ভোট না দেওয়া ছয়জনের মধ্যে বিএনপির তিনজন, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত একজন, খেলাফত মজলিসের একজন এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন।
অর্থাৎ, ছয়জনের অনুপস্থিতির কারণ এক নয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থতা ও বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে ভোট দিতে পারেননি। আবার রুমিন ফারহানা রাজনৈতিক ও নীতিগত কারণে ভোটদানে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৩টি ভোট পড়লেও কোনো ভোট বাতিল হয়নি। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১৬৭।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ভোটারদের প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট দেওয়ায় অংশগ্রহণের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য।
মোট ভোটার — ৩৪৯ জন | ভোট দিয়েছেন — ৩৪৩ জন | ভোট দেননি — ৬ জন | বৈধ ভোট — ৩৪৩টি | মির্জা ফখরুল — ২৫৫ | অলি আহমদ — ৮৮।
মন্তব্য করুন